স্বপ্নের পদ্মা সেতুর নির্মান কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৭১ ভাগ

দেশের সর্ববৃহৎ প্রকল্প পদ্মা সেতুর নির্মান কাজ নিজস্ব অর্থায়নে দিনরাত বিশাল কর্মযজ্ঞে প্রতিদিনই অগ্রগতি হচ্ছে।

দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের সোনালি ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে ও দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০০১ সালের ৪ জুলাই সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরের আট বছরে আর কোনো অগ্রগতি হয়নি।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ আবারও সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেমে থাকা প্রকল্প বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেন।

২০১২ সালে বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ঋণ চুক্তি বাতিল করায় ২০১৩ সালের ৪ মে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

এর পর ২০১৪ সালের মার্চে শুরু হয় পাইলিং কাজ। সেই থেকে চলছে কর্মযজ্ঞ।

২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেতুর মূল অবকাঠামো নির্মাণ কাজের উদ্বোধনের পর থেকে দিনরাত বিশাল কর্মযজ্ঞের প্রতিদিনই অগ্রগতি হচ্ছে।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২০১৫ সালের ১১ ডিসেম্বর পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজ হয় ২৭ ভাগ।

২০১৬ সালের ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪০ ভাগ, ২০১৭ সালের ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫২ ভাগ এবং চলতি বছরের ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মূল সেতুর কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৭১ ভাগ।

আর সার্বিক কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৬১ ভাগ। প্রকল্পের দায়িত্বশীল একাধিক নির্বাহী প্রকৌশলী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রকল্পের দায়িত্বশীল প্রকৌশলীরা জানান, ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর জাজিরা প্রান্তের ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটির ওপর প্রথম স্প্যান, চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি ৩৮ ও ৩৯ নম্বর খুঁটির ওপর দ্বিতীয় স্প্যান এবং গত ১১ মার্চ ৩৯ ও ৪০ নম্বর খুঁটির ওপর তৃতীয় স্প্যান এবং গত ১৩ মে ৪০ ও ৪১ নম্বর খুঁটির ওপর চতুর্থ স্প্যান স্থাপনে পদ্মা সেতুর মূল অবকাঠামো ৬০০ মিটার দৃশ্যমান হয়।

আর ২৯ জুন জাজিরা প্রান্তের ৪১ ও ৪২ নম্বর খুঁটির ওপর পঞ্চম স্প্যানটি বসানোর পর জাজিরা প্রান্তের দৃশ্যমান হয়ে ওঠে মূল সেতুর ৭৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের অবকাঠামো।

১২ অক্টোবর মাওয়া প্রান্তের ৪ ও ৫ নম্বর খুঁটির ওপর নতুন আরও একটি স্প্যান বসানোর পর দু’প্রান্ত মিলিয়ে দৃশ্য হয়ে উঠেছে মূল অবকাঠামোর ৯০০ মিটার।

রেলওয়ে সংযোগ প্রকল্প :-

প্রকল্প-সংশ্নিষ্টরা জানান, মূল সেতুর নির্মাণ কাজের সঙ্গে রেল সংযোগ প্রকল্পের কাজও শুরু করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে চলতি বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর পদ্মা সেতু প্রকল্পের জাজিরা প্রান্তে ৪১ ও ৪২ নম্বর খুঁটিতে থাকা ‘৭ এফ’ নম্বর স্প্যানের ওপর বসানো হয় রেলওয়ে বক্স স্ন্যাব।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাজিরা প্রান্তে পাঁচটি স্প্যানের ওপর শুরু হয়েছে রেলওয়ে স্ন্যাব বসানোর কাজ। এরই মধ্যে ৮০টি স্ন্যাব বসেছে স্প্যানের ওপর। এসব স্ন্যাবের ওপর বসবে রেললাইন।

মূল সেতু ও ঝুলন্ত পথ :-

পদ্মা সেতুর দায়িত্বশীল প্রকৌশলী জানিয়েছেন, ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দ্বিতল পদ্মা সেতুতে সব মিলিয়ে ৪২টি খুঁটি নির্মাণ করা হচ্ছে, যাদের ওপর বসবে ৪১টি স্প্যান। এর মধ্যে নদীর ৪০টি খুঁটিতে ২৪০টি পাইলের মধ্যে ১৮৫টি এবং ডাঙায় থাকা দুই খুঁটির ৩২টি পাইলের মধ্যে ১৯টি পাইল নিয়ে ২০৪টি পাইল স্থাপন হয়ে গেছে।

এরই মধ্যে ১৩টি খুঁটি সম্পন্ন হয়ে গেছে। আর ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ছয়টি স্প্যান এরই মধ্যে খুঁটির ওপর বসানো হয়েছে। ১১টি স্প্যান কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন প্রকল্পে প্রস্তুত রয়েছে।

চলতি বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের যে কোনো দিন বসানোর প্রক্রিয়া চলছে সপ্তম স্প্যান। এই স্প্যানটি খুঁটির ওপর বসানোর পর মূল সেতুর অবকাঠামো এক হাজার ৫০ মিটার দৈর্ঘ্যে রূপ নেবে।