সমকালীন মুন্সীগঞ্জ ডেক্সঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাহিরে গিয়ে প্রার্থী হওয়ায় মুন্সীগঞ্জ-৩-( সদর-গজারিয়া) আসনে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো.মহিউদ্দিন ও মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের বিএনপির সতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ মোমিন আলীকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
মোহাম্মদ মোমিন আলী জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য। আর মো.মহিউদ্দিন জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব।
বিজ্ঞপ্তিতে মুন্সীগঞ্জের এ দুই নেতা ছাড়াও ঢাকা বিভাগের আরো ৭ নেতা রয়েছেন। এছাড়াও একই বিজ্ঞপ্তিতে ৯ টি বিভাগের আরো ৫৩ জন নেতাকে বহিস্কার আদেশ দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় নীতি,আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার জন্য বিএনপির এসব নেতৃবৃন্দকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন মমিন আলী।
একইসঙ্গে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থীর বিপরীতে ফুটবল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মহিউদ্দিন নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।
মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে দলটির প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন সিরাজদিখান উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ মো.আবদুল্লাহ।
মুন্সীগঞ্জ-৩ থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মো.কামরুজ্জামান রতন।
মুন্সীগঞ্জ-১(সিরাজদিখান-শ্রীনগর) আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী ও জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মমিন আলী। শেখ মো.আবদুল্লাহকে মনোনয়ন ঘোষণার পর কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করে আসছিলেন মমিন-সরফত আলীর অনুসারী নেতা-কর্মীরা। তাঁরা সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল, ঢাকা-ভাঙা এক্সপ্রেসওয়ে অবরোধ সহ একাধিক কর্মসূচি পালন করেন। তবে দলের সিদ্ধান্তের কোন পরিবর্তন হয়নি। মঙ্গলবার মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে সরফত আলী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিলেও থেকে যান মমিন আলী।
একইভাবে জেলার সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ মুন্সীগঞ্জ-৩ ( মুন্সীগঞ্জ সদর ও গজারিয়া) আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব মো.মহিউদ্দিন।
গত গত ৪ ডিসেম্বর বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দ্বিতীয় দফায় এ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয় মো. কামরুজ্জামান রতনকে।
দল কামরুজ্জামান রতনকে বেছে নিলেও হাল ছাড়েনি মহিউদ্দিন ও তাঁর সমর্থকরা। মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকে পরিবর্তনের দাবি তুলে শহরের প্রধান সড়ক, সেতুতে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করে। এছাড়া লাগাতার মশাল মিছিল, বিক্ষোভ, নারীদের নিয়ে সভা-সমাবেশ করে। আসনটির দুটি উপজেলার ৩৫ টি ইউনিটের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নিয়ে প্রার্থীর পরিবর্তন ও মহিউদ্দিনকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণার দাবিতে সাংবাদিক সম্মেলনও করা হয়।

