দীর্ঘ ২৫ বছর পরেও পরিত্যাক্ত মুন্সীগঞ্জ পৌর শিশুপার্কটি নির্মান কাজ অনিশ্চিত !

সমকালীন মুন্সীগঞ্জ ডেক্স :

দীর্ঘ ২৫ বছর পর জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকা মুন্সীগঞ্জের একটি মাত্র পৌর-শিশু পার্কটি আলোর মুখ দেখার সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে পরেছে। তবে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র হাজ্বী মোহাম্মদ ফয়সাল বিপ্লব শিশুপার্কটি নতুন করে পুননির্মানে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহন করলেও এখনো অন্ধকারে নিমজ্জিত রয়েছে।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় এ পৌর শিশু পার্কটির নির্মান কাজ শেষ করবেন বলে আশার বানি শুনালেও সেখানে এখন ড্রেজার দিয়ে ভরাট করা ধু-ধু বালুর চর। মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে এ জরাজির্ন পরিত্যাক্ত পৌর শিশুপার্কটি এবং এর ঠিক পিছনেই রয়েছে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থাকার পরও সেখানে পরিনত হয়েছে দিন শেষে রাত হলেই সেখানে প্রতিদিন এখন মাদক সেবক ও মাদক বিক্রেতাদের আখড়ায়।

মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার সুত্রে জানা গেছে, গত বছরের (২০১৭)-এর ৫ই মার্চ তারিখে শিশুপার্ক স্থানের মাটি পরীক্ষার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তার ফলাফল সন্তোষজনক হবার কারনে পৌর মেয়রের সঙ্গে চায়না একটি প্রতিষ্ঠানের ফলোপ্রসু আলোচনা হয়েছিল। তবে রহস্যজনক কারনে সেই আলোচনা বাস্তবিক রুপ এখনো পাওয়া যায়নি। এ কারনে কবে থেকে এর নির্মান কাজ শুরু হবে তা নিয়ে সঙ্কিত ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে গোটা জেলার সচেতন মহল।

পৌরসভা সুত্র আরো জানান, মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে রাস্তার পাশে ১.৫৮ একর জায়গায় ১৯৯২ সালে মেসার্স ভায়া মিডিয়া টেন্ডার নিয়ে পৌরপার্কটির কাজ শুরু করে। এতে সময় লাগে প্রায় ৪ বছর।

গত ১৯৯৩ সালের ৪ জানুয়ারি তৎকালিন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী বর্তমান মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল হাই এই পৌর শিশু পার্কটির শুভ উদ্বোধন করেন। শিশুপার্কটি উদ্বোধন হওয়ার পরপরই দুর্নীতি দমন ব্যুরো মামলা করলে পার্কটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

পরবর্তিতে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা কতৃপক্ষের উদাসিনতা, সঠিক সিদ্ধান্ত না নিতে পারার কারণে শিশু পার্কটি কালক্রমে ধ্বংস হয়ে যায়।এতে জনগনের অনেক টাকার অপচয় হয় আর শিশুরা বঞ্চিত হয় চিত্ত বিনোদনের। ধ্বংসস্তুপে পর্যবসিত শিশু পার্কটি মাদকসেবী ও ছিনতাইকারীদের আড্ডাস্থলে পরিনত হয়।

তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আনিস উদ্দিন মঞ্জুরের মধ্যস্থতায় গত ৩০ এপ্রিল ২০০৬ সালে শিশু পার্কটি পুননির্মাণের লক্ষ্যে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। তখন মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমানের এবং ওয়ান্ডারল্যন্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিএম মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে একটি প্রাথমিক চুক্তি হয়।

সে সময় অবকাঠামো পূননির্মাণ ও খেলার সামগ্রীসহ সর্বসাকুল্যে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪ কোটি টাকা। ওয়ান্ডারল্যান্ড প্রতিবছর সকল মুন্সীগঞ্জ পৌরসভাকে ১ লাখ টাকা লিজ মানি দেবে।

লাভ-লোকসান বহন করার কথা ছিল ওয়ান্ডারল্যান্ডের। তবে পার্ক নির্মাণ এবং কি কি খেলনা সামগ্রী থাকবে সে সম্পর্কে পৌরসভা থেকে অনুমতি নিয়ে কাজ করতে হবে। এসব শর্ত নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে বনিবনা না হলে চুক্তি অকার্যকর হয়ে যায়।

পরে পার্কটির নির্মাণ কাজের শেষ পর্যায়ে দুর্নীতি দমন ব্যুরোর মামলার কারণে বন্ধ হয়ে যায়।তৎকালীন সময় ওয়ান্ডারল্যন্ড নামক একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিএম মোস্তাফিজুর রহমানকে প্রধান আসামী করে মামলা হয়। এতে শিশুপার্ক পূননির্মাণ কাজটি অনিশ্চিয়তার অতল গহবরে হারিয়ে যায়।

মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শহীদ-ই-হাসান তুহিন বলেন, দির্ঘ্য বছর পরেও যদি মুন্সীগঞ্জ জেলাবাসীর দিকে তাকিয়ে বর্তমান মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র গুরুত্বপূর্ণ জোড় ভুমিকা রাখেন তাহলে শিশুদের শারিরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য জরাজির্ন পরিত্যাক্ত শিশুপার্কটি নির্মান কাজ সম্পন্যের উদ্যোগ গ্রহন করেন। তাহলে মুন্সীগঞ্জের শিশুরা জেলা শহরে আনন্দ বিনোদন ও মেধা বিকাশের একটি নিরাপদ স্থান পাবে।

মুন্সীগঞ্জ সদরের কেওয়ার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেনীর ছাত্র শেখ নীসার আহমেদ নীড় বলেন, আমার মা সরকারি ও বাবা চাকুরিজীবী করেন। দুইজনই সারাদিন ব্যস্ত থাকেন। সপ্তাহে শুক্রবার একটা ছুটির দিন আমরা কোথাও গিয়ে আনন্দ করতে পারি না। শিশুপার্কটি থাকলে আমরা একটু খেলাধুলা করতে পারতাম।

মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ফয়সাল বিপ্লব জানান, শিশুপার্কের পুর্ননির্মানের জন্য টেন্ডারের কাগজ পত্রাদি তৈরী করা হচ্ছে। যে সকল প্রতিষ্ঠান শিশুপার্ক নির্মান করে থাকে তাদের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। উপযুক্ত প্রতিষ্ঠানকে টেন্ডারের মাধ্যমে এর পুননির্মানের কাজ দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন পৌর মেয়র। বর্তমান অর্থবছরের শিশুপার্ক পুন:নির্মানের বিল পাশ করা হয়েছে। এ পৌর শিশু পার্কটির নাম দেওয়া হবে-শেখ রাসেল শিশু পার্ক। আশা রাখি এ বছরেই আমরা এই পৌর-শিশুপার্কটি সম্পুর্ন নির্মান কাজ শেষ করেতে।

সমকালীন মুন্সীগঞ্জ / শেখ মোহাম্মদ রতন / 01818336808/ 26-01-18

-সমকালীন মুন্সীগঞ্জ-এর প্রকাশিত যে কোন-সংবাদ,-ছবি,-তথ্য,-কলাম-সম্পাদকের অনুমতি ছাড়া কপিরাইট করা সম্পুর্ন নিষেধ ও দন্ডনীয় অপরাধ।