জুবায়ের হত্যা, ৫ জনের ফাঁসি বহাল

জুবায়ের হত্যা, ৫ জনের ফাঁসি বহাল

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জুবায়ের আহমেদ হত্যা মামলায় হাইকোর্ট আপিলের রায় ঘোষণা করেছে। আদালত ৫ জনের ফাঁসি বহাল রেখেছে, ২ জনের যাবজ্জীবন ও খালাস দিয়েছে ৪ জনকে।

বুধবার (২৪ জানুয়ারি) বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

এর আগে, বুধবার (২৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় পড়া শুরু করেন। গতকাল মঙ্গলবার রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য থাকলেও বেঞ্চের একজন বিচারপতি ছুটিতে থাকায় রায় ঘোষণা করা হয়নি।

২০১২ সালের ৮ জানুয়ারি জুবায়ের আহমেদকে কুপিয়ে জখম করে ছাত্রলীগের একটি গ্রুপ। জুবায়েরও ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন। কোপানোর পরে জুবায়েরকে উদ্ধার করে ভর্তি করা সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। অবস্থার অবনতি হলে সেদিন রাতেই তাকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই ৯ জানুয়ারি ভোরে মারা জুবায়ের আহমেদ। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সে সময়ের রেজিস্ট্রার হামিদুর রহমান আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার শুনানী শেষে ২০১৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচজন আসামীকে ফাঁসির দড়িয়ে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড ও ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। আর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় দুজনকে খালাস দেন ঢাকার-৪ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ বি এম নিজামুল হক।

ফাঁসির দণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন- খান মোহাম্মদ রইছ ও জাহিদ হাসান, দর্শন বিভাগের রাশেদুল ইসলাম রাজু, প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের আশিকুল ইসলাম আশিক এবং সরকার ও রাজনীতি বিভাগের মাহবুব আকরাম। আসামী রাশেদুল ইসলাম রাজু ছাড়া বাকি চারজন পলাতক রয়েছেন।

আর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ পাওয়া ছয়জনের মধ্যে অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র নাজমুস সাকিব তপু ও দর্শন বিভাগের ইশতিয়াক মেহবুব অরূপের সাজা হাই কোর্টেও বহাল রাখা হয়েছে।

পরিসংখ্যান বিভাগের ছাত্র শফিউল আলম সেতু ও অভিনন্দন কুণ্ডু অভি, দর্শন বিভাগের কামরুজ্জামান সোহাগ এবং ইতিহাস বিভাগের মাজহারুল ইসলাম অভিযোগ থেকে খালাস পেয়েছেন।

গত ৯ জানুয়ারি জুবায়ের আহমেদ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস চেয়ে আসামিদের করা আপিল ও ডেথ রেফারেন্স (মৃতুদণ্ড নিশ্চিত করণ) শুনানি শেষ করে রায়ের জন্য ২৩ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট। আসামিরা সবাই ছাত্রলীগের নেতাকর্মী এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।