অমর একুশে গ্রন্থমেলা লেখক-পাঠকের যোগসূত্রেই বইমেলা

 

শেখ মোহাম্মদ রতন, সমকালীন মুন্সীগঞ্জ ডেক্স:

‘লেখকরা কেউ লেখেন গল্পের বই, কেউ উপন্যাস, কেউ বা কবিতা। হরেক রকম কবিতা কিংবা গল্পের বই। আর লেখকের লেখনীর সঙ্গে পাঠকের যোগসূত্র তৈরি করে বইমেলা।

সেখানে পাঠক তাঁর পছন্দের লেখকের বই খুঁজে নেন। বইমেলা লেখক, পাঠক আর সাহিত্য নিয়ে ভাবা মানুষের সম্মিলন। পাঠকরা আসেন বই কিনতে আর লেখকরা লেখনী নিয়ে হাজির হন এই বিশাল আয়োজনে।’

আলাপচারিতায় এসব কথা বলেন তরুণ লেখক মুস্তাফিজুর রহমান। তিনি একজন সক্রিয় পাঠকও। লিখেছেন পাঁচটি বই—তিনটি উপন্যাস আর দুটি গল্পের বই। এবারের মেলায় তাঁর একটি উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে। খবর কালের কণ্ঠ।

মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বইমেলা কেবল বই প্রকাশেই সীমাবদ্ধ নয়। এটা লেখক আর পাঠকের মেলবন্ধন ঘটায়, যোগসূত্র স্থাপন করে।

প্রকৃতপক্ষে যাঁরা বইপ্রেমী, তাঁরা সারা বছরই বিচ্ছিন্নভাবে বই কেনেন। তবে অধীর অপেক্ষাটা থাকে অমর একুশে গ্রন্থমেলার জন্য। মাসব্যাপী এ আয়োজনে তাঁরা নিজেদের পছন্দের লেখক বা সাহিত্যিকের বই কেনেন।’

মধ্যবয়সী এ তরুণ লেখক বলেন, ‘লেখা ও পড়া দুটিতেই আনন্দ পাই। যখন মন খারাপ থাকে, তখন বই পড়ি। এভাবে মনের অসুখ দূর করি। বই পড়ার মধ্যে পাই অন্য রকম আনন্দ। আর লেখালেখিতে আছে শব্দের খেলা, শব্দকে ভেঙে নতুন শব্দ তৈরির খেলা। মনের আবেগ আর অনুভূতি তুলে ধরতে লেখকদের এই খেলা নিত্যদিনের। আমারও তেমন চেষ্টাই থাকে। তবে লিখতে বসার আগে নিজেকে প্রস্তুত করে নিই।’

লেখক মুস্তাফিজুর বলেন, ‘একসময় আমাদের ভারতীয় লেখকদের ওপর নির্ভর করতে হতো। তাঁরা কখন লিখবেন আর আমরা কখন সেই বই পাব, সে জন্য অপেক্ষা করতে হতো। এখন আমাদের দেশে বড় বড় লেখক ও সাহিত্যিক আছেন। ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে তাঁরা আমাদের প্রতিনিয়ত বই পড়তে প্রেরণা দিচ্ছেন।’ নিজেকে একজন হুমায়ূনভক্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি হুমায়ূন আহমেদের সব বই পড়া শেষ করেছি। প্রতিটি বই পড়েই পেয়েছি অন্য রকম আনন্দ।’

তরুণ এই লেখক বলেন, সমরেশ মজুমদার ও সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় আমার প্রিয় লেখক। তাঁদের অনেক বই আমি পড়েছি, আরো পড়ছি। জীবনধর্মী উপন্যাস, গল্প কিংবা কবিতা আমাকে বেশি আকর্ষণ করে। এ ধরনের বই পড়ে জীবনের একটি বার্তা পাওয়া যায়। আমি মনে করি, কোনো লেখায় বার্তা না থাকলে তা পাঠককে আকৃষ্ট করে না।’

প্রবীণ লেখক ও সাহিত্যিকদের বইয়ের পাশাপাশি তরুণ লেখকদের বইও যত্ন নিয়ে পড়েন উল্লেখ করে মুস্তাফিজুর বলেন, ‘তরুণ লেখকদের অনেকের বইয়ে ছন্দ-তাল থাকে না। প্রকাশকরাও সেদিকে খেয়াল না করে বই প্রকাশ করেন। লেখককে সতর্ক হতে হবে। প্রকাশককেও মানের দিকে খেয়াল রাখতে হবে।’

সমকালীন মুন্সীগঞ্জ / ০১৮১৮৩৩৬৮০৮ / ১০-০২-১৮ / শেখ মোহাম্মদ রতন